বাঘও চাই বিদ্যুৎও চাই!

 

Sundarbans

ভুল সময়ে ভুল আন্দোলন!

সম্প্রতি ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লা-ভিত্তিক রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মানের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছেন আনু মুহাম্মদ-সহ আরো অনেকে। তাদের যুক্তি, এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র স্বাভাবিক ভারসাম্য হারাবে, যেহেতু রামপাল প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব সর্বনিম্ন ৯ কিলোমিটার হতে সর্বোচ্চ ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ প্রথম আলোয় লিখেছেন সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত বনভূমি ও বসতির ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় না। একই বিধান রয়েছে ভারতের ‘ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন এক্ট ১৯৭২’-এও।

এদিকে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের পূর্বে পরিবেশে এর প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। “সুন্দরবনের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, তার সর্বোচ্চ সাবধানতা নেওয়া হয়েছে। বাতাস ও পানির দূষণ রক্ষায় উচ্চমানের কয়লা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।”… এ-প্রকল্প একটি পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন। মনমোহন সাহেবও তার বক্তব্যে প্রকল্পের সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গ টানেন “সুন্দরবন দুই দেশের অভিন্ন ঐতিহ্য। আমি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাবো তারা যেন পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ মান অনুসরণ করেন।” কিন্তু তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা কমিটির শীর্ষনেতা আনু ভাই তোয়াক্কা না করে বলছেন, “মানুষের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।” তিনি বিপুল মানুষের সমর্থন নিয়ে লংমার্চ-সহ বিভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের নানা প্রান্তে; আমিও সাধুবাদ জানাই। তবে দেখা যাচ্ছে বিপুল জনসংখ্যার বেশিভাগ আঠারোদলীয় জোটের নেতা-কর্মী-সমর্থক। আনু ভাই বাম ঘরনার রাজনীতিমনোস্ক ব্যাক্তি। তার নেতৃত্বে আহুত এই আন্দোলন যদি তার অথবা বাম ঘরনার কোনো রাজনৈতিক দলের উপকারে আসে তাতে কোনো বিরোধিতা নেই! কিন্তু মনে হচ্ছে এ-আন্দোলনে উপকৃত হচ্ছে আঠারোদলীয় জোট (বিএনপি+জামাত); এটা শুধু আমার নয়, দেশের অনেকের উপলদ্ধি! তাছাড়া গত ৪২ বছরে প্রতিদিন শ’ শ’ গাছ কাটা হয়েছে সুন্দরবনে, এর জন্যে ক’টা লংমাচ ডাকা হয়েছে জানা নেই! বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্তিতিতে এ-ধরনের আন্দোলনে কি দেশের প্রধান বিরোধিদলের (বিএনপি+জামাত) পাটাতন ভারী করছেন না?

উল্লেখ্য : আনু মুহাম্মদ ২০০৯-এর দিকে বঙ্গোপসাগরে ব্লক ইজারার প্রতিবাদে পুলিশি নির্যাতনে আহত হলে পরবর্তিতে স্কয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে যান খালেদা জিয়া, এবং বেগম জিয়া তখন এর বিচারের প্রতিশ্রুতিও দেন- আনু ভাই তখন নিরব ছিলেন!

Advertisements